
মোঃ কামাল উদ্দিন, সৌদি আরব প্রতিনিধি:
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে সৌদি আরবজুড়ে মসজিদগুলোর জন্য নতুন ও কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে দেশটির ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এসব নির্দেশনা ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদের অন্যান্য কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। মন্ত্রণালয়ের জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, রমজান মাসে মসজিদের কর্মীদের পূর্ণ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কেবল জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনুপস্থিতি অনুমোদনযোগ্য নয়, তাও অবশ্যই সরকারি অনুমতি নিয়ে এবং বিকল্প দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্ধারণের মাধ্যমে ছুটি নিতে হবে। খবর গালফ নিউজের।
নির্দেশনায় নামাজের সময়সূচি উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এশার আজান নির্ধারিত সময়ে দিতে হবে এবং এশা ও ফজরের ক্ষেত্রে আজান ও জামাতের মাঝখানে ১৫ মিনিট বিরতি রাখতে বলা হয়েছে, যাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সহজ হয়। রমজানের শেষ দশ দিনে তাহাজ্জুদের নামাজ এমনভাবে শেষ করতে বলা হয়েছে, যাতে ভোরের আগে মুসল্লিদের কষ্ট না হয়।
কুনুতের দোয়ার ক্ষেত্রে নবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে-দোয়া হবে বিনয়ী ও সংযত, অতিরিক্ত দীর্ঘ বা ছন্দময় হওয়া যাবে না। পাশাপাশি রমজানজুড়ে মুসল্লিদের জন্য ধর্মীয় বয়ান ও শিক্ষা দেয়ার উৎসাহ দেয়া হয়েছে।
মসজিদের ভেতরে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে নামাজরত মুসল্লি বা ইমামকে ধারণ করা যাবে না এবং নামাজ সরাসরি সম্প্রচার বা লাইভ স্ট্রিম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মসজিদে বা আশপাশে ভিক্ষা করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, এবং জাকাত ও দান যেন সঠিক ও বৈধ খাতে পৌঁছায়—সে বিষয়ে মুসল্লিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে ইতিকাফ পালনকারীদের নিবন্ধন, নন-সৌদি নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্পনসর অনুমোদন, ইফতার কর্মসূচির জন্য নগদ অর্থ সংগ্রহ নিষিদ্ধ, নির্ধারিত স্থানে ইফতার আয়োজন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপরও কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো রমজানে মসজিদে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ নিশ্চিত করা।