মোঃ মনজুর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদক:-
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি প্রতিষ্ঠান আল মানসুর এতিমখানার নিয়ন্ত্রণাধীন হিফজ মাদ্রাসার হিফজ সমাপনী ছাত্র-ছাত্রীদের সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) আল মানসুর এতিমখানা কমপ্লেক্সের শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ ইসলামিক সেন্টার জামে মসজিদে পাগড়ী, ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মরহুম হাফেজ নেছারুদ্দিন আহমদ (রহ.) প্রতিষ্ঠিত এবং শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশ পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে হিফজ সমাপনী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট, পাগড়ী, হিজাব এবং নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশ ও অরফান্স শেল্টার ফাউন্ডেশন (ইউকে)-এর চেয়ারম্যান নাজমুস সা’দাত আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিম উদ্দিন নিজামী এবং জিল্লুর রহিম কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও আল মানসুর এতিমখানার সেক্রেটারি মোঃ মামুনুর রশীদ। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য ও মুসলিম উম্মাহ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি সাইয়্যেদ আবদুছ ছালাম।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার প্রকৌশলী মুয়াজ্জেম হোসেন এবং হাজিরপাড়া ইনসাফ মেডিকেল সেন্টারের চেয়ারম্যান আনোয়ার এলাহীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল মানসুর এতিমখানার সভাপতি ও জামিরতলী দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া (সিনিয়র) আলিম মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শাহ্ ওয়ালী উল্লাহ ইসলামিক সেন্টার বাংলাদেশের সেক্রেটারি ও আল মানসুর এতিমখানার সুপার মাওলানা মোঃ আবদুল ওদুদ পাটওয়ারী।
অনুষ্ঠানে হিফজ সমাপ্তকারী ১৭ জন ছাত্র ও ৩ জন ছাত্রীকে একটি করে পূর্ণাঙ্গ কুরআন শরীফ, পাগড়ী, ক্রেস্ট এবং নগদ ২,০০০ টাকা প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পিতাদের টুপি এবং মাতাদের হিজাব প্রদান করে সম্মানিত করা হয়, যা পুরো অনুষ্ঠানকে এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ দেয়।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তাঁর পিতা মরহুম হাফেজ নেছারুদ্দিন আহমদ (রহ.) এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা না করলে আজকের এই অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না। তিনি বলেন, সুযোগ পেলেই তিনি এই “জান্নাতের বাগানে” ছুটে আসেন এবং এখানে এসে আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করেন। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে তিনি অতিথি হিসেবে নয়, বরং একজন অভিভাবক হিসেবে এ মঞ্চে থাকতে চান এবং হাফেজ সন্তানের পিতা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কুরআনের হাফেজ শিক্ষার্থীদের তিলাওয়াত শুনে গভীরভাবে মুগ্ধ হন।
এছাড়াও ইসলামিয়া শাখার ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রধান অতিথিকে আল মানসুর এতিমখানার পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার তুলে দেওয়া হয়। অন্যান্য বিশেষ অতিথি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদেরও উপহার প্রদান করা হয়।
হাফেজ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং এ. এইচ. এম হেলালুর রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—
সহকারী শিক্ষক মাও. মো. মাকছুদুর রহমান, মাও. মো. শিহাব উদ্দিন, মাও. ফারুক হোসাইন চৌধুরী, মাও. মো. ইউছুফ আলী, মাও. মো. আবদুল মোনয়েম, ক্বারী হাবিবুল্লাহ, মো. নজরুল ইসলাম, রনিক ইসলাম, আলাল মিয়া, মাও. সিরাজুল ইসলাম, আতিকুর রহমান, মাও. মো. আবদুর রহিম এবং মো. ফয়সাল ইসলাম।
সহকারী হিফজ শিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
হাফেজ বেলাল হোসাইন, হাফেজ নাহিদুল ইসলাম, হাফেজ তাসনিম আলম, হাফেজ ইব্রাহিম খলীল এবং হাফেজ ইয়াকুব বিন ইউসুফ।
শিক্ষিকাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—
ইয়াছমিন আক্তার, আফিফা জান্নাত নাজিহা এবং ইসরাত জাহান মেহেরুনসহ অন্যান্য শিক্ষিকাবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত অতিথি, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ জহিরুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও অতিথিবৃন্দ আবেগঘন পরিবেশে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। বক্তারা বলেন, হিফজে কুরআন শুধু একটি শিক্ষা নয়; এটি একটি আমানত, যা সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা ও আলোকিত নেতৃত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জের চরচামিতা ইউনিয়নের রতনেরখিলে অবস্থিত আল মানসুর এতিমখানা দীর্ঘদিন ধরে এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে।প্রতিষ্ঠানের এই দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও আধুনিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।