মোঃ মনজুর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবনের অসংখ্য শিক্ষণীয় ঘটনার মধ্যে সত্যবাদিতা ও মায়ের আদেশ পালনের একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তৎকালীন সময়ে জ্ঞানচর্চা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল ইরাকের বাগদাদ। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ সেখানে পড়াশোনা ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসত। জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)ও একটি ব্যবসায়িক কাফেলার সঙ্গে বাগদাদের পথে যাত্রা করেন।
পথিমধ্যে কাফেলাটি একদল ডাকাতের কবলে পড়ে। ডাকাত সর্দার হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার সঙ্গে কী আছে?’
তিনি অত্যন্ত সরলভাবে উত্তর দিলেন, ‘আমার কাছে ৪০টি স্বর্ণমুদ্রা রয়েছে।’
তাঁর এমন সরল ও অকপট উত্তর শুনে ডাকাত সর্দার বিস্মিত হলেন। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে যুবক! তুমি তো চাইলে আমার কাছে মিথ্যা কথা বলে স্বর্ণমুদ্রাগুলো লুকিয়ে রাখতে পারতে। তাহলে সত্য কথাটি বললে কেন?’
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) বললেন, ‘আমার মা আমাকে মিথ্যা কথা বলতে নিষেধ করেছেন।’
এই কথা ডাকাত সর্দারের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি উপলব্ধি করেন—একজন সন্তান যদি মায়ের আদেশ পালনে এতটা দৃঢ় থাকে, তাহলে সে নিশ্চয়ই আল্লাহর আদেশ পালনের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত যত্নশীল।
ডাকাত সর্দার অনুতপ্ত হয়ে বললেন, ‘হে বালক! তুমি সাধারণ কোনো মানুষ নও। তুমি আমাকে কলেমা পড়াও।’
বর্ণিত ঘটনানুযায়ী, ডাকাত সর্দারের সঙ্গে থাকা আরও প্রায় ৬০ জন অশ্বারোহীও এ ঘটনায় প্রভাবিত হয়ে কলেমা পাঠ করে ইসলামের পথে ফিরে আসেন।
এই ঘটনা শুধু একটি অলৌকিক বা আবেগঘন কাহিনি নয়—এটি সত্যবাদিতা, মায়ের প্রতি আনুগত্য এবং নৈতিক চরিত্রের শক্তির একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবেও বর্ণিত হয়। একজন মানুষের সত্য কথা বলার দৃঢ়তা কীভাবে অন্য মানুষের জীবনেও পরিবর্তনের কারণ হতে পারে, ঘটনাটি তারই একটি অনন্য উদাহরণ।
হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবন থেকে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, মাতা-পিতার প্রতি শ্রদ্ধা, আল্লাহর আনুগত্য এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
সুবহানাল্লাহ।