মোঃ মনজুর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর, বুধবার পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালিত হবে। ইসলামের অন্যতম মহান বুযুর্গ ও আধ্যাত্মিক সাধক গাউসে পাক হযরত শেখ আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিবছর এ দিবসটি পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়ে থাকে। এসব আয়োজনে গাউসে পাক হযরত শেখ আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম, চারিত্রিক গুণাবলি, তাকওয়া, ইখলাস, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক সাধনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় তাঁর অসাধারণ জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিনয়, সত্যনিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি মানুষকে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ, ন্যায়-নীতি, পরোপকার, অসহায়দের সহায়তা এবং সৎ পথে চলার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা তুলে ধরা হয়।
মাহফিলে গাউসে পাকের নসিহত, আত্মসংযম, পাপ থেকে বিরত থাকা, হালাল-হারাম মেনে চলা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, গাউসে পাক হযরত শেখ আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবন ও আদর্শ মানুষকে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, মানবিকতা ও সৎ জীবনযাপনে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর শিক্ষার আলোকে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকা ও মানবসেবার মাধ্যমে দিনটি পালনের আগ্রহ দেখা যায়। অনেকে নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দরুদ শরিফ পাঠ এবং বিশেষ দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করেন। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে খাবার, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
গাউসে পাকের জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিন মানুষের কল্যাণে কাজ করা, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায় ও অনৈতিকতা পরিহার এবং পারস্পরিক ভালোবাসা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালনের মাধ্যমে গাউসে পাকের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে ধারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।