আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , ইসলামিক লেখক ও গবেষকঃ-
ইসলামের ইতিহাসে সুলতান সালাহউদ্দীন আল-আইয়ুবী (রহ.) সাহস, নেতৃত্ব ও ধর্মীয় অনুরাগের জন্য সুপরিচিত। তাঁর জীবন ও কর্মকে ঘিরে মুসলিম সমাজে বহু ঘটনা ও বর্ণনা প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে একটি আধ্যাত্মিক বর্ণনাও বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনায় পাওয়া যায়।
প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, জীবনের শেষ সময়ে সুলতান সালাহউদ্দীন আল-আইয়ুবী (রহ.) যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তাঁকে কেউ প্রশ্ন করেন—তিনি দীর্ঘদিন আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেছেন এবং শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছেন; কিন্তু তিনি যুদ্ধে শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেননি।
এর জবাবে সালাহউদ্দীন (রহ.) তাঁর শৈশবের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করেন বলে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, ছোটবেলায় তাঁর বাবা তাঁকে শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে শায়খ তাঁর ঘাড়ে হাত রেখেছিলেন।
প্রচলিত ওই বর্ণনায় আরও বলা হয়, এ ঘটনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাহউদ্দীন (রহ.) বলেছিলেন—শৈশবে শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর বরকতময় হাত যে ঘাড় স্পর্শ করেছে, শত্রুর তরবারি কীভাবে সেই ঘাড় স্পর্শ করবে?
এই কথার মধ্য দিয়ে মূলত শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও তাঁর বরকতের প্রতি ভক্তদের বিশ্বাসের বিষয়টি প্রকাশ পায়। একই সঙ্গে এতে সুলতান সালাহউদ্দীন আল-আইয়ুবী (রহ.)-এর আল্লাহর পথে আত্মত্যাগের আকাঙ্ক্ষা এবং শায়খদের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধার একটি চিত্র ফুটে ওঠে।
শায়খ আবদুল কাদির জিলানী (রহ.) ইসলামী আধ্যাত্মিকতা ও সুফিবাদের ইতিহাসে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে মুসলিমদের কাছে পরিচিত। অন্যদিকে সালাহউদ্দীন আল-আইয়ুবী (রহ.) মধ্যযুগের মুসলিম ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত শাসক ও সামরিক নেতা।
তবে ইতিহাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হলো—উল্লিখিত ঘটনাটি নির্ভরযোগ্য প্রাথমিক ঐতিহাসিক উৎসে কতটা প্রতিষ্ঠিত, তা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বর্তমানে এটি মূলত ধর্মীয় বক্তৃতা, জীবনীমূলক আলোচনা ও প্রচলিত বর্ণনার মাধ্যমে পরিচিত একটি আধ্যাত্মিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপিত হয়।