ইসরাত জাহান তমা, বিশেষ প্রতিনিধিঃ-
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে চালের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে। ৫০ কেজি চালের বস্তা ঢাকায় পরিবহনে বাড়তি খরচ হচ্ছে ১০ টাকা, অথচ খুচরা পর্যায়ে একই বস্তার দাম বাড়ানো হয়েছে ১৫০ টাকা। অর্থাৎ পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় বস্তাপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫ গুণ। এতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) প্রকাশিত বাজারসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর বাজারে পাইজাম চালের কেজিপ্রতি দাম ৫৭ টাকা থেকে বেড়ে ৬০ টাকা এবং মিনিকেট চালের দাম ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫ টাকা হয়েছে। উভয় ধরনের চালের ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা। <Cite refs={[“turn841243news9”]}/>
পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় দাম বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক?
কাওরান বাজারের এক পাইকারি চাল ব্যবসায়ীর হিসাব অনুযায়ী, বগুড়া থেকে ঢাকার কাওরান বাজারে চালবাহী একটি ট্রাক আনতে আগে ভাড়া লাগত ১৪ হাজার টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর তা বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। একটি ট্রাকে ৫০ কেজির ৩০০ বস্তা চাল পরিবহন করা হলে ট্রাকপ্রতি অতিরিক্ত দুই হাজার টাকা ব্যয়ের হিসাবে বস্তাপ্রতি পরিবহন খরচ বাড়ে প্রায় ৬ টাকা ৬৭ পয়সা—গোল করে প্রায় ৭ টাকা। অন্যদিকে বাজারের হিসাবে বস্তাপ্রতি ১০ টাকা অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় খুচরা পর্যায়ে বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। <Cite refs={[“turn841243news9”]}/>
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, ভোগান্তিতে ক্রেতারা
খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি পাইকারি পর্যায়ে চালের দাম বাড়ানোয় তাঁদেরও বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে পাইকারি ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব চালের দামে পড়েছে।
তবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি ধানের দাম ও মিল পর্যায়ের মূল্যবৃদ্ধিও বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই চালের দাম বাড়ার পেছনে কোন খাতে কতটা ব্যয় বেড়েছে, তা যাচাই করা জরুরি। <Cite refs={[“turn841243search1″,”turn841243search3”]}/>
বাজার তদারকির দাবি
চাল দেশের মানুষের প্রধান খাদ্য। এ নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। আয় না বাড়লেও খাদ্যব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় চালের উৎপাদন, মিল পর্যায়ের বিক্রয়মূল্য, পাইকারি দর এবং পরিবহন ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খুঁজে বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাজারে নিয়মিত তদারকি, মূল্যতালিকা যাচাই এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব চালের বাজারে পড়তে পারে। তবে সেই অজুহাতে পরিবহন ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।