
স্টাফ রিপোর্টারঃ
হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলালের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ঘিরে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দলীয় কোন পদে না থাকলেও দলীয় সকল কার্যক্রমে সভাপতি হিসেবে উপস্থিতির চেষ্টা থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেতে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
জাতীয় পার্টি থেকে বিএনপি, বিএনপি থেকে পিডিপি নানান সময় দল বদলানো সুবিধাভোগী বেলাল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন এমপি আবু জাহিরের সাথে আঁতাত করে সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করে হয়েছেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। তার ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় প্রাণ কোম্পানির জায়গায় অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে মোটা অংকের বাণিজ্য করে রীতিমতো বনে গেছেন টাকার পাহাড়। এখনো তার একক নিয়ন্ত্রণে চলছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের জুট ব্যবসা। আর সেই অর্থ বাণিজ্য করে বাগিয়ে নিতে চাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসকের পদ। এ নিয়ে চরম অসস্তি দেখা দিয়েছে বিএনপি পরিবারে।
তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, দল পরিবর্তনকারী ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হলে তা দলের জন্য বিব্রতকর হতে পারে। যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ‘হাইব্রিড’ নেতাদের প্রাধান্য দিলে তা দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।
জানা যায়, জাতীয় পার্টি দিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী বেলাল। পরে বিএনপিতে যোগদান করলেও ২০০৮ সালে ১/১১ সরকারের সময়ে কর্নেল চৌধুরী ফজলুল বারীর পরামর্শে তার ছোট ভাই চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমানের হাত ধরে যোগ দেন ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর নেতৃত্বাধীন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপিতে। পরবর্তীতে পিডিপি ব্যর্থ হলে ঘেষতে শুরু করেন বিএনপিতে। তদবির এবং টাকার বিনিময়ে বাগিয়ে নেন উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ। আওয়ামীলীগের আমলে আতাত করে চলায় পড়তে হয়নি মামলা-হামলায়। বর্তমানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার জন্য সেই পদ থেকে পদত্যাগ করলেও নিজেকে বিভিন্ন মহলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন তিনি। এ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এর আগে ২০২২ সালের আওয়ামী লীগের সাজানো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে অংশগ্রহণ করেন তিনি। এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে পরাজিত হন বেলাল।