• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি, ঘন কুয়াশায় কমতে পারে দৃশ্যমানতা ইসরায়েলের নির্বাচনে সমানে-সমান নেতানিয়াহু-আইজেনকোট, ঝুলন্ত সংসদের আভাস নেতানিয়াহুর পরাজয় ঘোষণা ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নেতানিয়াহু জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনে চরম অনিশ্চয়তা অন্ধ্র-ওড়িশায় আছড়ে পড়লো ‘অর্ণব’, সরিয়ে নেওয়া হলো প্রায় দুই লাখ মানুষ মিরপুর-১-এ ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদ অভিযান চলছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে আগ্রহী জাপান হাতীবান্ধা থেকে দৈনিক সংবাদ উন্মোচনের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি হলেন মোঃ নাজমুল হুদা ইয়েমেনের হুথিদের হামলা বন্ধে সৌদির ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব! ২৮ অক্টোবরের রাশিফল: কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে?

আজ ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: স্মরণে গাউসুল আজম হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)

হযরত মাও মুফতি ক্বারী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আলম গাজী, ইসলামিক গবেষক ও কলামিস্ট:- / ১২৪ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

হযরত মাও মুফতি ক্বারী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আলম গাজী,
ইসলামিক গবেষক ও কলামিস্ট:-

আজ ১১ রবিউস সানি। মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি অংশের কাছে দিনটি ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে গাউসুল আজম হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে ফাতেহা, মিলাদ, দোয়া ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ বলতে রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে অনুষ্ঠিত ফাতেহাকে বোঝানো হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বিএসএস) এক প্রতিবেদনে দিনটিকে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর স্মরণে পালিত দিবস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ইসলামের ইতিহাসে সুপরিচিত একজন আলেম, খতিব ও সুফি সাধক। তিনি ৪৭০ হিজরি/প্রায় ১০৭৭-৭৮ খ্রিষ্টাব্দে পারস্যের জিলান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাগদাদে গিয়ে ইসলামি জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা ও ধর্মীয় দাওয়াতের সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর সঙ্গে কাদেরিয়া সুফি তরিকার ঐতিহাসিক বিকাশের সম্পর্ক রয়েছে।
জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি বাগদাদে শিক্ষা ও ধর্মীয় আলোচনায় নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিত বলে ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে ফুতুহুল গায়ব ও আল-গুনিয়াহ লিতালিবি তারিকিল হক বিশেষভাবে পরিচিত।
তাঁর পিতা আবু সালেহ জঙ্গীদোস্ত এবং মাতা ফাতেমা নামে বিভিন্ন জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, তিনি ৪৭০ হিজরিতে জিলান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে বাগদাদে গিয়ে জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
তরুণ বয়সে তিনি বাগদাদে গিয়ে ইসলামি আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক সংশোধন ও আধ্যাত্মিক সাধনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে একজন প্রভাবশালী বক্তা ও শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর শিক্ষা ও প্রভাব পরবর্তী সময়ে কাদেরিয়া তরিকার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঐতিহাসিকভাবে তাঁর ইন্তেকালের সাল ৫৬১ হিজরি/১১৬৬ খ্রিষ্টাব্দ হিসেবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। তাঁর ওফাতের নির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন মত রয়েছে; তবে বাংলাদেশে ১১ রবিউস সানি ‘ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম’ হিসেবে প্রচলিত ও পালিত হয়ে আসছে।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, মিলাদ ও আলোচনা মাহফিলের আয়োজন করেন। এসব আয়োজনের মাধ্যমে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবন, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক আদর্শ ও আধ্যাত্মিক সাধনার কথা স্মরণ করা হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা