হযরত মাও মুফতি ক্বারী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন আলম গাজী,
ইসলামিক গবেষক ও কলামিস্ট:-
আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম। ১১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ বছর ১১ রবিউস সানি ২৩ সেপ্টেম্বর পালিত হচ্ছে।
ইসলামের ইতিহাসে প্রসিদ্ধ সুফি সাধক ও ধর্মপ্রচারক গাউসুল আজম হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর ওফাত স্মরণে প্রতিবছর রবিউস সানি মাসের ১১ তারিখে ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালন করা হয়। ‘ইয়াজদাহম’ ফারসি শব্দ, যার অর্থ এগারো। এ উপলক্ষে কোরআনখানি, ফাতেহা, মিলাদ, দোয়া ও ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ আলেম ও সুফি সাধক হিসেবে পরিচিত। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি ৪৭০ হিজরিতে জিলান অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন। জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে তিনি বাগদাদে যান এবং সেখানে ইসলামী জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক প্রভাব মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়।
সুফি ঐতিহ্যে তিনি ‘গাউসুল আজম’ ও ‘বড় পীর’ নামে পরিচিত। তাঁর জীবন ও শিক্ষা অনুসারীদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া, নৈতিকতা, মানবসেবা এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।
প্রচলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.) ৫৬১ হিজরির ১১ রবিউস সানি ইন্তেকাল করেন। তাঁর ওফাতের স্মরণে ১১ রবিউস সানি ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম পালনের রীতি প্রচলিত হয়েছে।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদ, খানকা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, ফাতেহা, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও গরিব ও অসহায়দের মধ্যে খাবার বিতরণেরও আয়োজন রয়েছে।
এদিকে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছুটি পালন করা হচ্ছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) অধীন পিটিআইগুলোতে ছুটি ২৪ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ২৩ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমকে ঘিরে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে হজরত আবদুল কাদের জিলানী (রহ.)-এর জীবন, সাধনা ও ইসলামী শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হবে।