মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, সুবর্ণচর (নোয়াখালী) প্রতিনিধিঃ-
সাবেক স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে খলিলুর রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও এসআরবি। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যবাগ্যা গ্রামে।
গ্রেপ্তার খলিলুর রহমান লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া গ্রামের মোফাজ্জল হকের ছেলে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যবাগ্যা এলাকায় একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে মাদ্রাসাছাত্র নাঈমের (১৪) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাঈম তার নানার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করত। সে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়ত।
জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর নাঈম নানার বাড়িতে বসবাস করে পড়াশোনা চালিয়ে আসছিল। গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে খাবার খেয়ে নানার বাড়িতেই ঘুমিয়ে পড়ে সে। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরের ধানক্ষেতের পাশে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
পরিবারের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার সুমি গত মাসে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন খলিলুর রহমান এবং তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার জেরে নাঈমকে নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর খলিলুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। তবে পরদিন ছেলের জানাজায়ও তিনি অংশ নেন। তার আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশ ও এসআরবি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পরে শুক্রবার সকালে লক্ষ্মীপুরের হাজীরহাট পালকি বাজার এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন নিহত নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে তার সাবেক স্বামীকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, নাঈমকে হত্যার পর খলিলুর রহমান আত্মগোপনে চলে যান। পরে তার গতিবিধি ও আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশ ও এসআরবি যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।