মোঃ মনজুর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়ার পর পরিবার ও সমাজের নানা প্রশ্ন, হতাশা এবং মানসিক চাপ—সবকিছু পেছনে ফেলে দৃঢ় মনোবল ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নাঈমা ফেরদৌসী। সরকারি পি.সি. কলেজ, বাগেরহাটে পড়াশোনা করা এই শিক্ষার্থী অর্জন করেছেন বহুল কাঙ্ক্ষিত গোল্ড মেডেল।
গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি নাঈমার। কলেজে পড়ার সুবাদে শহরে আসেন তিনি। পড়াশোনায় বরাবরই ভালো ছিলেন। তবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পাওয়ার ঘটনা তার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। ওই সময় পরিবার ও সমাজের নানা প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে অনেকটা একা ও অসহায় মনে হয়েছিল তার।
নাঈমা বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় চান্স না পাওয়ার পর তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করতে শুরু করেন—‘আমি কেন পারলাম না?’ তখন তার মনে হয়েছিল, হয়তো তার পড়াশোনার পথ এখানেই শেষ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি হাল ছাড়েননি। নিজেকে বুঝিয়েছেন, তাকে পারতেই হবে।
অনার্স জীবনেও সবসময় প্রত্যাশিত পারিবারিক সহযোগিতা না পেলেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন নাঈমা। অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে আল্লাহর রহমতে নিজ বিভাগের প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এই সাফল্য তাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তার মনে বিশ্বাস জন্ম নেয়—চেষ্টা করলে তিনিও পারবেন।
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার পর থেকে তিনি Pi Math Club-এর বিভিন্ন ক্লাস দেখতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে ক্লাসগুলো তার কাছে ভালো লাগতে থাকে এবং পড়াশোনায় তা সহায়ক হিসেবে কাজ করে। পরবর্তী সময়ে অনার্স তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে তিনি Pi Math Club-এর কোর্সে পূর্ণাঙ্গভাবে ভর্তি হন।
নাঈমার ভাষ্য অনুযায়ী, Pi Math Club-এর ক্লাসগুলো তার পড়াশোনার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এমনকি পরীক্ষার আগের রাতেও তিনি ক্লাসগুলো দেখেছেন। এর পাশাপাশি শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং সুদীপ্ত ভাইয়ার দিকনির্দেশনাও তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
নাঈমা বলেন, ‘আল্লাহর রহমত, আমার পরিশ্রম, শিক্ষকদের সহযোগিতা, Pi Math Club-এর ক্লাস এবং সুদীপ্ত ভাইয়ার গাইডলাইন—সবকিছু মিলিয়েই আজকের এই অর্জন।’
গোল্ড মেডেল অর্জনের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাঈমা বলেন, এটি তার কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য পরিশ্রম, ত্যাগ, অপেক্ষা, ব্যর্থতা এবং বারবার নতুন করে শুরু করার গল্প।
তার ভাষায়, ‘Gold Medal—একটি পদক নয়, আমার লড়াইয়ের সবচেয়ে সুন্দর স্বীকৃতি।’
নাঈমার এই সাফল্য শুধু একটি একাডেমিক অর্জন নয়, বরং ব্যর্থতার পরও হাল না ছেড়ে লক্ষ্যে অটুট থাকার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প। ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর যে তরুণী একসময় ভেবেছিলেন তার পড়াশোনা হয়তো এখানেই শেষ, সেই তিনিই পরবর্তী সময়ে নিজের বিভাগে প্রথম হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত গোল্ড মেডেল অর্জন করে প্রমাণ করেছেন—একটি ব্যর্থতা জীবনের শেষ অধ্যায় নয়।
নিজের ভবিষ্যতের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন নাঈমা ফেরদৌসী। তিনি চান, আল্লাহ যেন তাকে সঠিক পথে রাখেন, তার পরিশ্রম কবুল করেন এবং জীবনে ভালো কিছু করার তৌফিক দান করেন।