• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি, ঘন কুয়াশায় কমতে পারে দৃশ্যমানতা ইসরায়েলের নির্বাচনে সমানে-সমান নেতানিয়াহু-আইজেনকোট, ঝুলন্ত সংসদের আভাস নেতানিয়াহুর পরাজয় ঘোষণা ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নেতানিয়াহু জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনে চরম অনিশ্চয়তা অন্ধ্র-ওড়িশায় আছড়ে পড়লো ‘অর্ণব’, সরিয়ে নেওয়া হলো প্রায় দুই লাখ মানুষ মিরপুর-১-এ ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদ অভিযান চলছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে আগ্রহী জাপান হাতীবান্ধা থেকে দৈনিক সংবাদ উন্মোচনের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি হলেন মোঃ নাজমুল হুদা ইয়েমেনের হুথিদের হামলা বন্ধে সৌদির ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব! ২৮ অক্টোবরের রাশিফল: কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে?

মাধ্যমিক শিক্ষায় উদ্বেগ: বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা ছাড়াই ইংরেজি-গণিত পড়াচ্ছেন ২০ হাজার শিক্ষক

মোঃ শাকিল, রিপোর্টার,(চট্টগ্রাম বিভাগ):- / ৩৯ Time View
Update : শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬

মোঃ শাকিল, রিপোর্টার,(চট্টগ্রাম বিভাগ):-

দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। স্নাতক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিষয় না পড়েও ইংরেজি ও গণিত পড়াচ্ছেন ২০ হাজারের বেশি শিক্ষক। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরে কর্মরত প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষকের নেই বিএড, এমএড বা বিপিএডের মতো পেশাগত প্রশিক্ষণ। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান ও শিখনফল অর্জন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান–২০২৫ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি পড়ানো ৬৪ হাজার ২৫৩ জন শিক্ষকের মধ্যে ৯ হাজার ৯৮২ জন স্নাতক পাস করলেও স্নাতক পর্যায়ে তাঁদের ইংরেজি বিষয় ছিল না। অন্যদিকে, গণিত পড়ানো ৬৭ হাজার ৬৯৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ১০ হাজার ১৬৯ জনের স্নাতক পর্যায়ে গণিত বিষয় ছিল না। অর্থাৎ, দুই বিষয়ে মোট ২০ হাজার ১৫১ জন শিক্ষক স্নাতক পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিষয় অধ্যয়ন না করেই পাঠদান করছেন।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকটে ব্যাহত পাঠদান
শিক্ষাবিদদের মতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের নিজেদের বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয়েও ক্লাস নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ইংরেজি পড়ানো শিক্ষকদের মধ্যে ৪ হাজার ২১২ জন উচ্চমাধ্যমিক পাস। অন্যদিকে, গণিত পড়ানো শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে গণিত অধ্যয়ন করেছেন। বাকি শিক্ষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বিষয়ভিত্তিক অধ্যয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ঘাটতি রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষকসংকটের কারণে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলেও বিষয়ভিত্তিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ইংরেজির আটটি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন চারজন। গণিতের ছয়টি পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন চারজন। ফলে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদেরও ইংরেজি ও গণিতের ক্লাস নিতে হচ্ছে।
ঢাকার বাইরেও শিক্ষকসংকটের চিত্র উদ্বেগজনক। সিলেটের জকিগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ৪৮৬ জন ছাত্রী থাকলেও কর্মরত শিক্ষক ছিলেন মাত্র দুজন। প্রয়োজনীয় পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটিতে ছয়জন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়।
প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষকের পেশাগত প্রশিক্ষণ নেই
ব্যানবেইসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ১৬ হাজার ৭৩৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক রয়েছেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫৭ জন। তাঁদের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিএড, এমএড বা বিপিএডের মতো পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, প্রায় ৩৫ শতাংশ শিক্ষকের এ ধরনের প্রশিক্ষণ নেই।
এ ছাড়া দেশের ২ হাজার ৪৭৪টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৫ হাজারের বেশি শিক্ষকের মধ্যে পেশাগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাত্র ১৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তর রয়েছে এমন ১ হাজার ৫৫৬টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষকের মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ পেশাগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
সব মিলিয়ে মাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষকের পেশাগত প্রশিক্ষণ রয়েছে। বাকি প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষক এ ধরনের প্রশিক্ষণের বাইরে রয়েছেন। বর্তমানে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৮৬ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি।
শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ
শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ঘাটতি এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাব শিক্ষার্থীদের শেখার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়ে দুর্বলতা পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে দিতে পারে। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভর করতে হয়।
সাম্প্রতিক এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলও ইংরেজি ও গণিতে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতার বিষয়টি সামনে এনেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড ছাড়া অন্য আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ছিল ৮০ শতাংশের নিচে।
বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের তাগিদ
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে পেশাগত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের ঘাটতির পাশাপাশি সার্বিক শিক্ষকসংকট রয়েছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে গণিত শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ‘খান একাডেমি বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে শিক্ষা বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমানের মতে, শিক্ষক হিসেবে যোগদানের আগেই পেশাগত প্রশিক্ষণ ও সনদ অর্জনের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। শুধু স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেই একজন শিক্ষক পাঠদানের জন্য পুরোপুরি দক্ষ হয়ে ওঠেন না। কার্যকরভাবে পাঠদান করতে প্রয়োজন যথাযথ পেশাগত প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি দ্রুত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ, বিদ্যমান শিক্ষকসংকট নিরসন এবং পেশাগত প্রশিক্ষণের আওতা বাড়ানো জরুরি। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি কমানো সম্ভব হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা