• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
আমিরাতে রেড অ্যালার্ট জারি, ঘন কুয়াশায় কমতে পারে দৃশ্যমানতা ইসরায়েলের নির্বাচনে সমানে-সমান নেতানিয়াহু-আইজেনকোট, ঝুলন্ত সংসদের আভাস নেতানিয়াহুর পরাজয় ঘোষণা ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নেতানিয়াহু জোট এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনে চরম অনিশ্চয়তা অন্ধ্র-ওড়িশায় আছড়ে পড়লো ‘অর্ণব’, সরিয়ে নেওয়া হলো প্রায় দুই লাখ মানুষ মিরপুর-১-এ ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা ও দোকান উচ্ছেদ অভিযান চলছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে আগ্রহী জাপান হাতীবান্ধা থেকে দৈনিক সংবাদ উন্মোচনের লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি হলেন মোঃ নাজমুল হুদা ইয়েমেনের হুথিদের হামলা বন্ধে সৌদির ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব! ২৮ অক্টোবরের রাশিফল: কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে?

পূর্বের চাকরিকাল দিয়ে জ্যেষ্ঠতা দাবি করতে পারবেন না জাতীয়করণকৃত শিক্ষকরা আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

দৈনিক সংবাদ উন্মোচন, নিউজ ডেস্কঃ- / ১৬ Time View
Update : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬

দৈনিক সংবাদ উন্মোচন, নিউজ ডেস্কঃ–

জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পূর্বের চাকরিকালের ৫০ শতাংশকে ‘কার্যকর চাকরিকাল’ হিসেবে গণনা করে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর জ্যেষ্ঠতা দাবি করতে পারবেন না। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ২ জুলাই প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সরকারের করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেন।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, ২০১৩ সালের জাতীয়করণকৃত শিক্ষক বিধিমালা অনুযায়ী, জাতীয়করণের আগে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অর্জিত চাকরিকালের ৫০ শতাংশ গণনার সুবিধা কেবল জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এ সুবিধা ব্যবহার করে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা অতিক্রম করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
আদালত আরও বলেন, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা তাঁদের প্রাথমিক নিয়োগের তারিখ থেকে সংরক্ষিত থাকবে। অন্যদিকে, জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের অবস্থান নির্ধারিত হবে জাতীয়করণের অব্যবহিত আগে নিয়োগপ্রাপ্ত সর্বশেষ সরাসরি শিক্ষকের নিচে। এ বিধানকে অযৌক্তিক বা স্ববিরোধী বলার সুযোগ নেই।
হাইকোর্টের রায় বাতিল
জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদমর্যাদা পাওয়ার দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের একাংশ হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট তাঁদের পক্ষে রায় দিয়ে ২০১৩ সালের বিধিমালার ৯(১) বিধির একটি অংশকে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং আবেদনকারীদের প্রধান শিক্ষক হিসেবে গণ্য করে জ্যেষ্ঠতা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সরকার। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণসংক্রান্ত বিধিমালার বৈধতা বহাল রাখেন।
প্রধান শিক্ষক পদমর্যাদার দাবিও গ্রহণযোগ্য নয়
পূর্ণাঙ্গ রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, আবেদনকারীরা ২০১৩ সালের ১০ নভেম্বরের সরকারি আদেশে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করেননি। পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় বিধিবদ্ধ শর্ত পূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রমাণও তাঁরা উপস্থাপন করতে পারেননি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কেবল অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাওয়া কিংবা পদোন্নতির প্রস্তাব পাঠানোর তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি ও অনুমোদন অনুসরণ করা আবশ্যক।
দীর্ঘদিনের জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি
জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা, পদোন্নতি ও অবসরকালীন সুবিধা নির্ধারণে ২০১৩ সালে বিশেষ বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এতে জাতীয়করণের আগে বেসরকারি বিদ্যালয়ে চাকরিকালের অর্ধেক গণনার সুযোগ রাখা হয়। তবে এ সুবিধার প্রয়োগ নিয়ে জাতীয়করণকৃত ও সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে জ্যেষ্ঠতা-সংক্রান্ত বিরোধ দেখা দেয়।
আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের মধ্য দিয়ে পূর্বের চাকরিকাল গণনার সুবিধা এবং সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতার অবস্থান সম্পর্কে আইনি ব্যাখ্যা স্পষ্ট হলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা