
মোঃ মনজুর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
বন্দর চুক্তি ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, মব সন্ত্রাসে নিহত আলেমে দ্বীন মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যার বিচার, মাদ্রাসা পাঠ্যবইয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদা পুনঃসংযোজন এবং চাকরিচ্যুত ইমাম-খতিবদের পুনর্বহালসহ ছয় দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ঢাকা মহানগর।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন হাফেজ মোহাম্মদ শাহজালাল।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী যুবসেনার কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ক্যান্সার গবেষক অধ্যক্ষ ডা. এস এম সরওয়ার। এছাড়া বক্তব্য দেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শাহেদুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন নুরী, ইঞ্জিনিয়ার আলম জালালী, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ মাসউদ হোসাইন, আলম ফরাজী, হাফেজ জাবের হোসাইন, কবি সৈয়দ ইসমাইল হোসেন জনি এবং দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নেসারীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, “মব কালচার কোনো সভ্য রাষ্ট্রে গ্রহণযোগ্য নয়। মব সন্ত্রাসীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। ধর্মীয় মতাদর্শের কারণে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত মাওলানা রইস উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
তারা আরও বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আকাঈদ ও ফিকহ বিষয়ক পাঠ্যপুস্তকে ইসলামের মূলধারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিশুদ্ধ আকিদা পুনঃসংযোজন জরুরি। পাশাপাশি অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা জিয়ারত ও উসিলা গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা আরও দাবি জানান, মব সন্ত্রাসের অজুহাতে চাকরিচ্যুত শিক্ষক, ইমাম, খতিব ও ব্যাংকারদের দ্রুত পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দেশের স্বার্থবিরোধী বন্দর ও একতরফা বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানান তারা।
এছাড়া আউলিয়া কেরামের মাজার শরীফে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মাজারসমূহ সরকারি খরচে পুনর্নির্মাণ এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলা হয়।
আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে বক্তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দৈনিক বাংলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।