রাজশাহীর বাঘা উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চল চকরাজাপুর ইউনিয়নে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ইউনিয়নে ঘটে যাওয়া কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের লক্ষ্যে গত ২৭ মে (বুধবার) এলাকাটি ঘুরে দেখেন স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শন দলে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হাছান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেরাজুল হকসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা। পরিদর্শনকালে তারা সম্ভাব্য ফাঁড়ির স্থানটি সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চকরাজাপুর ইউনিয়নটি বাঘা থানা সদর থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। চরাঞ্চল হওয়ায় কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই ভৌগোলিক দূরত্বের সুযোগ নিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল।
সম্প্রতি চকরাজাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুলা খামারুর ১৭৬টি গরু লুটের চেষ্টা এবং এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
পরিদর্শনকালে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ফাঁড়িটি চালু হলে যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের অস্থিরতা দূর হয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও শান্তি ফিরে আসবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভা শেষে এলাকার সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।