শেখ ফরিদ, আন্তর্জাতিক রিপোর্টার, ইতালী:-
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ এবং শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে গুরুতরভাবে স্কুলে একীভূত হতে সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতা আরোপের বিষয়টিও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) নিজ দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব সংগঠনের একটি অনুষ্ঠানে মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
ইতালিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নিয়ে আগে থেকেই একটি নীতিগত সীমা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সার্কুলারে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে ওই সীমা বাস্তবে পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। বিষয়টি এবার আইনের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
তবে মেলোনির নতুন ঘোষণায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন সীমা কত শতাংশ হবে, তা এখনো নির্দিষ্ট করা হয়নি। কোনো এলাকায় বিদেশি পরিবারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তি না করে কীভাবে এ সীমা কার্যকর করা হবে—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্কুল-প্রধানদের সংগঠন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন নানা চ্যালেঞ্জের কথা জানিয়েছে।
অন্যদিকে, স্কুলে বোরকা ও নিকাবসহ মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মেলোনি। তবে এটি এখনো আইন হিসেবে পাস হয়নি। প্রস্তাবটির বিস্তারিত বিধান ও বাস্তবায়ন পদ্ধতিও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বর্তমানে ইতালির সব স্কুলে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে—এমনটি বলা সঠিক হবে না।
ইতালীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো স্কুলে শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা ও সমাজের সঙ্গে একীভূতকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় আরও কার্যকর করা। তবে প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রস্তাবগুলো বর্তমানে ঘোষিত ও পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে। নতুন আইন পাস ও কার্যকর হওয়ার আগে ইতালির স্কুলগুলোতে এসব নিয়ম সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।