টাঙ্গাইলের মধুপুরে নবম ও দশম শ্রেণীর বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য এক টন চোরাই পাঠ্যবই উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার নরকোনা গ্রামবাসিরা ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনের নিকট থেকে এসব বই উদ্ধার করে। দুটি অটোভ্যানে করে এসব বই তিনি বাড়ি থেকে অন্যত্র পাচার করছিলেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হাসান।
গ্রামবাসী হোসেন মোবারক জানান, ইব্রাহীম হোসেন মাঝে মধ্যে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে বিভিন্ন শ্রেণীর বিনামূল্যের পাঠ্য বই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করে আসছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সে বেশ কয়েকটি ভ্যান ভর্তি পাঠ্য বই ওই গুদাম থেকে কিনে আনে। তারপর বাড়ি থেকে আজ বুধবার অন্যত্র পাচারের চেষ্টা করে। সন্দেহবশত গ্রামের কতিপয় যুবক খোঁজ নিয়ে দেখতে পান, সবই নবম-দশম শ্রেণীর বিনামূল্যের পাঠ্যবই। তারা স্থানীয় সংবাদকর্মী এবং থানা পুলিশকে খবর দেন।
ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন জানান, তিনি মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইটগার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে এসব বই কেজি দরে কিনে এনেছেন। কাজেই তার কোনো দোষ নেই।
বই বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক অফিসার মো. মহিউদ্দীন জানান, তার অগোচরে নাইটগার্ড এ কুকর্ম করেছে। পরে মধুপুরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান এবং পাঠ্য বই জব্দ করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করে থানায় প্রেরণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, বিনামূল্যের এসব পাঠ্য বই কিভাবে কোথা থেকে এল তা তদন্ত করে দেখা হবে। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল হাসান বাদি হয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।