
মোঃ তোফাজ্জল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার:
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার কেশবপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে চরম প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৪০ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৯ জনেরই আসন্ন পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ফরম পূরণের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হলেও তা যথাসময়ে সম্পন্ন না হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু পরীক্ষার মাত্র কয়েকদিন আগে সংশ্লিষ্ট ৩৯ জন শিক্ষার্থী জানতে পারেন, তাদের ফরম পূরণই করা হয়নি। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩৪ জনের নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনও সম্পন্ন করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কামারুজ্জামান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণের টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, অফিস সহকারীকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বারবার খোঁজ নেওয়ার পরও তাকে জানানো হয়েছিল যে সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি বিষয়টি সরাসরি তদারকি করতে পারেননি।
অধ্যক্ষ আরও জানান, বিষয়টি সমাধানে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কলেজ পরিদর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা গেলে সমস্যার সমাধান হতে পারে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক শামীম হাসান জানান, অধ্যক্ষ সম্প্রতি বোর্ডে এলেও তিনি কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (হার্ড কপি) সঙ্গে আনেননি। তিনি বলেন, “আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
পরীক্ষার একেবারে দোরগোড়ায় এসে এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এ সংকট আরও গভীর হয়ে উঠেছে। অনেক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, কষ্ট করে ফরম পূরণের টাকা জোগাড় করলেও প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় তাদের সন্তানদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।