
মোঃ জামাল হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা থেকে উঠে আসা এক অদম্য প্রাণশক্তির নাম মিথুন শাহরিয়ার। আজ তিনি হবিগঞ্জের স্থানীয় হিপহপ ও ফ্রিস্টাইল অঙ্গনের অন্যতম পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত। তবে তার এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অদম্য জেদ, অধ্যবসায় এবং সংগীতের প্রতি গভীর ভালোবাসা নিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী হিসেবে।
মিথুন শাহরিয়ারের সংগীতযাত্রা শুরু হয় ২০১০-১১ সালের দিকে, যখন বাংলাদেশে হিপহপ সংস্কৃতি কেবল অঙ্কুরিত হচ্ছিল। সে সময় এই ঘরানার গান সাধারণ মানুষের কাছে ছিল প্রায় অপরিচিত। কিন্তু শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগ থাকায় তিনি থেমে থাকেননি। পাড়া-মহল্লার আড্ডা কিংবা বন্ধুদের ঘরোয়া আসরেই নিয়মিত পরিবেশন করতেন তার গান। তখন না ছিল বড় কোনো প্ল্যাটফর্ম, না ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তার—ফলে তার প্রতিভা দীর্ঘদিন আড়ালেই থেকে যায়।
সে সময় নিজের তৈরি করা বিট এবং ব্লুটুথের মাধ্যমে এক ফোন থেকে অন্য ফোনে গান ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল তার প্রচারণার একমাত্র উপায়। বিভিন্ন স্টুডিওতে সুযোগের জন্য দ্বারস্থ হলেও তাকে বারবার অবহেলা ও নিরুৎসাহের মুখে পড়তে হয়। অনেকেই সরাসরি বলে দিয়েছিলেন, “বাংলাদেশে র্যাপ গানের কোনো ভবিষ্যৎ নেই।”
তবে প্রতিকূলতা তাকে দমাতে পারেনি। ২০১৬ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তার ফ্রিস্টাইল ট্র্যাক “হবিগঞ্জ” রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় এবং প্রথমবারেই ব্যাপক সাড়া ফেলেন তিনি। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় “হবিগঞ্জ পার্ট ২”, যা তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি। এমনকি করোনা মহামারির সময়েও তিনি থেমে থাকেননি; সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রকাশ করেন প্রতিবাদী গান “করাপশন”।
মাঝে কিছুটা বিরতি থাকলেও বর্তমানে মিথুন শাহরিয়ার আগের চেয়েও বেশি পরিণত ও সক্রিয়। তিনি তার শেকড়—হবিগঞ্জকে—বিশ্বদরবারে নতুনভাবে তুলে ধরতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
ভবিষ্যতে সমাজসচেতনতামূলক ও বাণিজ্যিক ধারার মানসম্মত সংগীত উপহার দিয়ে বাংলা হিপহপ ইন্ডাস্ট্রিকে আরও সমৃদ্ধ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ শিল্পী। তার সংগ্রামী পথচলা আজ শায়েস্তাগঞ্জসহ পুরো অঞ্চলের তরুণদের কাছে এক অনন্য প্রেরণার উৎস।