ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বচিয়ারা গ্রামে ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি গাছ | কাটার সময় সেটি পুনরায় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে শত শত মানুষের ভিড়, মানত করা, আগরবাতি-মোমবাতি জ্বালানো এবং গাছের শেকড়-বাকল সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আলোচিত ওই গাছটি কেটে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে একটি ঝড়ে মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের এই গাছটি শেকড়সহ উপড়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে গাছটি কাটার উদ্দেশ্যে এর ডালপালা অপসারণ করা শুরু হলে একপর্যায়ে ভারসাম্য পরিবর্তন হয়ে এর মূল অংশটি হঠাৎ সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই ‘অলৌকিক’ ঘটনা দেখতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শারমীন সুলতানা জানান, তিনি নিজ চোখে গাছটি পড়ে যেতে এবং পরবর্তীতে দাঁড়িয়ে যেতে দেখেছেন। গাছ কাটার সময় এটি হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলে তিনি চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, ঝড়ে পড়ে যাওয়ার পর গাছটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাটার সময় এমন ঘটনা ঘটায় মানুষ এটিকে অলৌকিক মনে করে প্রতিদিন ভিড় করছিল। অনেকেই মানত করার পাশাপাশি গাছের শেকড় ও বাকল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিবারের আরেক সদস্য আবুল বাশার মুন্সী ঘটনাটিকে ‘আল্লাহর কুদরত বলে উল্লেখ করেন।
তবে এই ঘটনায় অতিপ্রাকৃত কোনো বিষয় নেই বলে নিশ্চিত করেছেন গাছ কাটার কাজে যুক্ত থাকা কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া। তিনি পরিষ্কার করে জানান, গাছটি শেকড়সহ উপড়ে পড়েছিল। ভারী ডালপালাগুলো কেটে ফেলার পর ওজনের ভারসাম্য পরিবর্তনের কারণেই মূল গুঁড়িটি পুনরায় আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে যায়।
এদিকে, গাছটিকে ঘিরে মানুষের উপচেপড়া ভিড় এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন নানা কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকায় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। জনসমাগম ও সার্বিক শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে গাছটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসনের উপস্থিতিতে গত বুধবার থেকে গাছটি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসাধারণকে কোনো ধরনের কুসংস্কার বা গুজবে বিশ্বাস না করে পুরো ঘটনাটিকে স্বাভাবিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। গাছটি কেটে ফেলার মাধ্যমে কয়েকদিন ধরে চলা এই আলোচিত ঘটনার সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।