রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের নিচ পলাশী ফতেপুর গ্রাম থেকে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ জুন রাতে ওই কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার পর ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা গত ১৬ জুন বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নিখোঁজ কিশোরী স্থানীয় চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং নিচ পলাশী ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ বদর উদ্দিন মোল্লার মেয়ে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মৃত আনছার দেওয়ানের ছেলে মোঃ বাক্কার দেওয়ান (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিতেন। কিশোরী তার প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে অপহরণের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে বাক্কার দেওয়ানের পরিবারকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কিশোরী নিজ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিল। এ সময় মোঃ বাক্কার দেওয়ান ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জন সহযোগী জোরপূর্বক তাকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মিষ্টার (৪০) ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে অভিযুক্তের বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে বাক্কার দেওয়ানের দুই ছেলে তাদের ওপর চড়াও হয় এবং গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঘটনার পরদিন ৫ জুন বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে মোঃ বাক্কার দেওয়ান ফোন করে কিশোরীর বাবাকে জানান, মেয়েটি তার কাছেই রয়েছে এবং তাকে আর খোঁজাখুঁজি না করতে বলেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কিশোরীর বাবা মোঃ বদর উদ্দিন মোল্লা বলেন, “আজ ১৭ দিন ধরে আমার মেয়ের কোনো খোঁজ নেই। বাক্কার দেওয়ান ফোন করে জানিয়েছে আমার মেয়ে তার কাছে আছে। এরপর থেকে আমরা চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছি। সে আমার নাবালিকা মেয়ের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার মেয়েকে দ্রুত ও সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করার আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরুপায় হয়ে বাঘা থানায় মোঃ বাক্কার দেওয়ানসহ অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেরাজুল হক বলেন, “পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। নিখোঁজ স্কুলছাত্রীকে উদ্ধারে আমরা ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”