মোঃ মনজুর হোসেন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত পীর-মশায়েখদের মহাসমাবেশ ঘিরে জনসমাগম নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। কেউ উপস্থিতির সংখ্যা নিয়ে সমালোচনা করছেন, আবার কেউ এটিকে সুন্নিয়তপন্থীদের সাংগঠনিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। এমন পরিস্থিতিতে আবেগ নয়, বরং বাস্তবতার আলোকে বিষয়টির মূল্যায়ন করাই অধিক সমীচীন।
নিঃসন্দেহে পীর-মশায়েখদের আহ্বানে আরও বেশি মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশিত ছিল। তবে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে, নানা সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও যে আয়োজন বাস্তবায়িত হয়েছে, সেটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
সমাবেশের দিন রাজধানীতে তীব্র তাপদাহ বিরাজ করছিল। খোলা মাঠে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা অনেকের জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। ফলে বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারী রোদের তীব্রতা এড়াতে আশপাশের গাছের ছায়ায় অবস্থান নেন। তাই শুধু মূল মাঠের দৃশ্য দেখে উপস্থিতির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। যারা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে মাঠে অবস্থান করেছেন, তাদের আন্তরিকতা ও ত্যাগ অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
একই সঙ্গে আয়োজকদের কিছু সীমাবদ্ধতাও চোখে পড়েছে। বিশাল মঞ্চ নির্মাণ, মঞ্চের দুই পাশে অতিরিক্ত চেয়ারের ব্যবস্থা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—শ্রোতাদের জন্য পর্যাপ্ত প্যান্ডেলের ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভবিষ্যতের আয়োজনে এসব বিষয়ে আরও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করলে অংশগ্রহণকারীদের স্বাচ্ছন্দ্য যেমন বাড়বে, তেমনি আয়োজনও আরও সুশৃঙ্খল হবে।
তবে সীমাবদ্ধতার চেয়ে আয়োজকদের প্রচেষ্টা ও সাহসকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পীর-মশায়েখ ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে একত্রিত করে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি বৃহৎ সমাবেশের আয়োজন নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ। অনেকের দৃষ্টিতে এটি সুন্নিয়তপন্থীদের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
ইতিহাস বলে, বড় পরিবর্তনের সূচনা প্রায়ই ছোট পদক্ষেপ থেকেই হয়। তাই সাময়িক সীমাবদ্ধতায় নিরাশ না হয়ে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও সুসংগঠিত ও বৃহত্তর পরিসরে ভবিষ্যৎ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়াই সময়ের দাবি।
আশা করা যায়, ঐক্য, পরিকল্পনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও ব্যাপক, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেই প্রত্যাশাই আজ সুন্নিয়তপন্থী মানুষের প্রধান শক্তি ও প্রেরণা।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার সভাপতি মুহাম্মদ আজাদ হোসাইন বলেন, “সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত এই মহাসমাবেশ সুন্নিয়তপন্থীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক সূচনা। সীমাবদ্ধতা থাকলেও হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর, সুশৃঙ্খল ও সফল আয়োজনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। ইনশা-আল্লাহ, খুব শিগগিরই আরও বড় পরিসরে আবারও দেখা হবে।”