হাফেজ মাও মোঃ মাকছুদের রহমান (মান্নান), নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মতে, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইসলামের ইতিহাসে এক মহিমান্বিত ও আনন্দঘন উপলক্ষ। বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত, রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভ আগমন মানবজাতির জন্য আল্লাহ তাআলার এক অনন্য নিয়ামত। এ কারণে রবিউল আউয়াল মাসে তাঁর শুভ জন্মস্মৃতি উপলক্ষে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা এবং দরূদ-সালামের মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করে।
তাদের মতে, ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে কুরআন তিলাওয়াত, দরূদ ও সালাম পাঠ, সিরাত আলোচনা, ইসলামী সম্মেলন, দোয়া-মাহফিল, দান-সদকা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আলেমদের ভাষ্য অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র, ন্যায়বিচার, দয়া, মানবতা ও শান্তির শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহকে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও ইসলামের সৌন্দর্য প্রচারে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
তবে ইসলামের বিভিন্ন ধারার আলেমদের মধ্যে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মতামত ও ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের মতে, মহানবী (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা, তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগের মাধ্যমেই ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রকৃত শিক্ষা বাস্তবায়িত হতে পারে।