মোঃ রিয়াজ উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি এবং প্রান্তিক জনপদের অজানা গল্পকে দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরার নিরলস প্রয়াসে দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্টুডিওর গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজন করে আসছে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। সেই ধারাবাহিকতায় এবার শিকড়ের সন্ধানে ‘ইত্যাদি’র ক্যামেরা পৌঁছেছে নদীবেষ্টিত উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরে।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ঐতিহাসিক দালাল বাজার জমিদারবাড়ির স্মৃতিবাহী শতবর্ষী নবীন কিশোর উচ্চবিদ্যালয়ের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে নির্মিত মনোরম মঞ্চে ধারণ করা হয়েছে এবারের পর্ব। জেলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পর্যটনের সম্ভাবনা এবং সংগ্রামী মানুষের জীবনচিত্র স্থান পেয়েছে পুরো আয়োজনজুড়ে।
অনুষ্ঠান ধারণকে কেন্দ্র করে লক্ষ্মীপুরজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। দুপুরের পর থেকেই দর্শকদের ঢল নামে অনুষ্ঠানস্থলে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায় পুরো প্রাঙ্গণ। সদর উপজেলা ছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে হাজারো দর্শক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অতিরিক্ত দর্শকের কারণে আশপাশের ভবনের ছাদ, দেয়াল, রাস্তা এমনকি গাছের ডালেও অবস্থান নেন অনেকে। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ভ্যাপসা গরমও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাটা ফেলতে পারেনি।
এবারের পর্বে থাকছে দুটি বিশেষ গান। লক্ষ্মীপুরের শিল্পী তানজিনা রুমা এবং ফেনীর শিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুলের কণ্ঠে একটি গান পরিবেশিত হয়েছে। গানটির কথা লিখেছেন কবির বকুল এবং সুর করেছেন আকাশ মাহমুদ। এছাড়া লক্ষ্মীপুরকে নিয়ে নির্মিত পরিচিতিমূলক নৃত্যগীতে কণ্ঠ দিয়েছেন তানজিনা রুমা ও রাজিব। মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন উজ্জ্বল সিনহা। এস কে জাহিদের কোরিওগ্রাফিতে এতে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় নৃত্যশিল্পীরা।
অনুষ্ঠানের দর্শক পর্বে লক্ষ্মীপুরকে ঘিরে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে নির্বাচিত চারজন দর্শক বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামানের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পান।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী এবং লক্ষ্মীপুরের কৃতী সন্তান নিশাত মজুমদারের একান্ত সাক্ষাৎকার। তিনি এভারেস্ট অভিযানের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ‘ইত্যাদি’র প্রতি নিজের অনুভূতির কথাও তুলে ধরেছেন।
এছাড়া পর্বটিতে রয়েছে লক্ষ্মীপুরের সয়াবিন চাষ, নারিকেল ও সুপারিবাগান, জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও দর্শনীয় স্থান নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ প্রতিবেদন। রয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে অনুপ্রেরণাদায়ক একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে যাওয়া এক মাঝির জীবনসংগ্রাম নিয়ে হৃদয়স্পর্শী মানবিক প্রতিবেদন।
বিদেশি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক উপকূলীয় সড়ক গ্রেট ওশান রোড এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস।
এছাড়া নিয়মিত আয়োজনের অংশ হিসেবে থাকছে কাশেম টিভির রিপোর্টার ও নাতির প্রাণবন্ত সংলাপ, ‘চিঠিপত্র’ পর্ব এবং সমসাময়িক সামাজিক অসংগতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নাট্যাংশ, যেখানে অংশ নিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীরা।
জনপ্রিয় এই ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানটির রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত। ফাগুন অডিও ভিশন নির্মিত এবং কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটি আগামী ৩১ জুলাই (শুক্রবার) রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হবে।