লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা বন্ধ এবং ফসলি জমি রক্ষার দাবিতে মাননীয় হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ। ‘পরিবেশ বাঁচাও, রামগতি-কমলনগর বাঁচাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে এই দাবি জানানো হয়।
খোলা চিঠিতে সচেতন নাগরিকরা জানান, রামগতি ও কমলনগরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলো এলাকার পরিবেশ, কৃষি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসকে দূষিত করছে, যার ফলে শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ তীব্র শ্বাসকষ্ট ও নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইটভাটার কারণে শুধু পরিবেশই বিপন্ন হচ্ছে না, বরং ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষি জমি কেটে মাটি নেওয়ার ফলে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত ভারী যানবাহনের যাতায়াতের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট, পোল ও কালভার্ট ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রামগতি ও কমলনগরের সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের কাছে ৫ দফা দাবি জানানো হয়েছে:
১. সকল অবৈধ ইটভাটা দ্রুত বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. ফসলি জমি ধ্বংস ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
৩. পরিবেশ দূষণ রোধে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।
৪. রাস্তাঘাট, পোল ও কালভার্ট রক্ষায় প্রয়োজনীয় নজরদারি নিশ্চিত করা।
৫. ভবিষ্যতে যেন নতুন কোনো অবৈধ ইটভাটা স্থাপিত না হতে পারে, তা নিশ্চিত করা।
রামগতি ও কমলনগরের সচেতন নাগরিকদের পক্ষে এই খোলা চিঠির সৌজন্যে রয়েছেন মোঃ আব্দুর রহিম বকুল। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মাননীয় হুইপের আন্তরিক হস্তক্ষেপে এই অঞ্চলের মানুষ একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ ফিরে পাবে।